Showing posts with label HAPPY REPUBLIC DAY 2011. Show all posts
Showing posts with label HAPPY REPUBLIC DAY 2011. Show all posts

Wednesday, 26 January 2011

হিজিবিজি ২৬।০১।২০১১






Enclosed please find herewith…বা Please refer to letter dated … আমার লেখা মানে’ত এইরকম।

এতদিনে মুফতে একটা জায়গা পাওয়া গেছে।আমি হিজিবিজি কাটবো,হাবিজাবি লিখবো,যাচ্ছেতাই বলবো। পাঁচ-সাতজন পাঠক’ত পেয়েই যাবো।

আমার ‘ঠাকুমা’ গত হয়েছিলেন, তখন আমার পাঁচ’ছ বছর বয়েস হবে।পাঁচভাই দুইবোনের,আমিই সবার ছোট।তবে আমার বেশ মনে পড়ে, খুব ছোটখাঠো চেহারা ছিল ঠাকুমার। কোমর থেকে সামনের দিকে অনেকটা ঝুকে চলাফেরা করতো,তাই আরো ছোটখাঠো লাগতো।বিধবা, স্বপাকাহারী মানুষ।সর্বক্ষণ এই ‘ছুঁয়ো না’,ওই ‘ছোঁয়া লেগে’ গেল গেল ভাব। তবে দুপুরবেলায় ঘুম থেকে উঠে ঠাকুমার ‘পাতের ভাত’(মানে ঠাকুমার lunchএর বাকি ভাত তরকারি-এখন বুঝি, ইচ্ছা করেই বেশী বানাতো।) আর রাতে গরম দুধে-ভেজানো জনতা ষ্টোভে করা রুটি। আহা! সেই অমৃতের স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে। আমরা তীর্থের কাকের মত বসে থাকতাম।তবে,ঠাকুমার লাইনের কোনোদিন গণ্ডগোল হ’ত না। কার, কোন বার লাইন আসবে।“আইজ বিষ্ষুদবার,ছুটকইন খাইব”।

আমার বাবারা চারভাই,ঠাকুমা তাঁর চার ছেলের কাছেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে থাকতেন। বৃদ্ধ বয়েস, ওষুধপত্র লেগেই থাকত। বাবা ডাক্তার ছিলেন,সেজন্য ঠাকুমা আমাদের বাড়িতে বেশী থাকতেন। ঠাকুমা মানে সাদা কালো সরু পাড়ে ধুতি,হাটুর কিছুটা নীচ থেকে ন্যাড়াসম মাথা পর্যন্ত আলগাভাবে জড়ানো। চৌকো একটা কোরা কাপড়ের কর্ণের দিকের কোণার খুঁটগুলো বেধেঁ একটা পুটুলি, তারমধ্যে রুদ্রাক্ষের মালা ,ডানহাতে বুকের কাছে ধরে, জপে যাচ্ছে,দিবারাত্র বা অহর্নিশ। অবিরত জপও চলছে,’হরে রাম,হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে’। সঙ্গে চলছে বকাঝকা, খ্যাচ্ খ্যাচ বেশীরভাগ সময়ই ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে,মাঝেমধ্যে আমাদের পড়া নিয়ে। এই খ্যাঁচ খ্যাঁচ এর মধ্যে যত না বিরক্তি ছিল, অনেক বেশী ছিল প্রশ্রয়-এখন বুঝি।

অনেকদিন পর আমার ঠাকুমার কথা মনে এল, দূরথেকে দেখি এক ঠাকুরমা-সমা আসছেন।ঠিক ওইভাবে সামনে বেশ খানিকটা ঝুকে,ডান হাতটা ঠিক সেইভাবেই বুকের সামনে ধরা পুঁটুলি। ঠাওর পেলাম যখন দেখলাম,পুঁটুলির রঙ কালো।এই ঠাকুরমা-র শাড়িটা অনেক বেশী ধবধবে সাদা। উনি আমার দিকে আসছেন,আমিও উনার দিকে। যত কাছাকাছি আসছি, আরও দ্রুত ‘পরিবর্তন’ দেখছি। আরও খানিকটা কাছে হয়ে নজরে এলো, ঠাকুরমার পরণে মেখেলা-চাদর,মুখেও যেন কি জপ করছে। ঠিক যখন আমি ঠাকুরমা cross করছি। আর উনি আমাকে। এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ আমার ওপর আছড়ে পড়লো। ঠাকুরমার ওই নকশিকাটা কালো পুঁটুলি থেকে ভেসে এলো, জগজিৎ সিং গলায়,”হে রাম,হে রাম”